অনলাইন সংগৃহীত ছবি
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর লেবানন সীমান্তে আবারও উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলের ব্লাত ও ওয়াদি বারঘৌতি এলাকায় নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। যুদ্ধবিরতির পর এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হামলার লক্ষ্য ও পরিস্থিতি
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, অধিকাংশ হামলা বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় হলেও অনেক ক্ষেত্রে বেসামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এই বিস্ফোরণগুলো ঘটছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল-মানার জানিয়েছে, কেবল যুদ্ধবিমান নয়, মার্কাবা শহরে ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকেও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বেসামরিক হতাহত ও মানবিক সংকট
হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক হামলায় পরিস্থিতি শোচনীয়। গত বৃহস্পতিবার বেকা উপত্যকার কফর দান এলাকায় এক হামলায় ১৬ বছর বয়সী এক সিরীয় কিশোর নিহত হয়, আহত হন অন্তত ২৯ জন।
জাতিসংঘের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৭ জনই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে লেবাননে নিহতের মোট সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজারে।
আকাশে যুদ্ধের দামামা
বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের আকাশে নিয়মিত টহল দিচ্ছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এভাবে হামলা চলতে থাকলে নভেম্বর মাসের সেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে।